vcBux

Sunday, 20 March 2011

বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমের খোঁজ ৯ মাসেও মিলেনি
রাজধানীতে আড়াই বছরে ৫ হাজার বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার\ অধিকাংশই নৃশংস গুপ্ত খুনের শিকার
কামাল উদ্দিন সুমন : রাজধানীতে গুপ্ত খুনের ঘটনা বেড়ে চলছে। সে সাথে বেড়েছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা। গত আড়াই বছরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে পুলিশ ৫ হাজার ২শ ২৫টি বেওয়ারিশ লাশ উদ্ধার করেছে এবং আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম এলাশের দাফন কাজ সম্পন্ন করে। উদ্ধারকৃত লাশের অধিকাংশই নৃঃশংস খুনের শিকার। অনেকের হাত কিংবা পা নেই আবার কারোর চক্ষু উপড়ানো ,অনেক লাশের শরীরে গুলীবিদ্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। সড়ক দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা, কিংবা রেলে কাটা পড়া বেওয়ারিশ লাশের চাইতে নৃশংস খুনের শিকার বেশী বলে সূত্র জানায়। এদিকে নিখোঁজ হওয়ার ৯ মাস পরও বিএনপি নেতা কাউন্সিলর চৌধুরী আলমের কোন হদিস মিলেনি। গত বছর ২৫ জুন তিনি নিখোঁজ হন। আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম সূত্রে জানা যায়, গত ৫ বছরে ঢাকায় বেওয়ারিশ হিসাবে মোট ৯ হাজার ৫শ ৮৭টি লাশ তারা দাফন করে। এর এর মধ্যে ২০১১ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৭৬ জন, ২০১০ সালে ১২০৪ জন, ২০০৯ সালে ১৯৭৮ জন, ২০০৮ সালে ১৮৬৭ জন, ২০০৭ সালে ২২৫৯ জন, ২০০৬ সালে ২০৯৯ জনের লাশ দাফন করে। সূত্র জানায়, ঢাকা শহরে গড়ে প্রায় ৫টি লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে। এসব লাশ বেশিরভাগই পরিকল্পিত হত্যাকান্ডের শিকার বলে জানা যায়। সন্ত্রাসীদের অন্তঃকলহ, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ, পূর্ব শত্রুতার জের, রাজনৈতিক শত্রুতা, প্রেমঘটিত বিষয় কিংবা ছিনতাইকারীরা এসব হত্যাকান্ডের পেছনে কাজ করছে। কিন্তু এসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় কোনো বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। সূত্র জানায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজে ৩০টি লাশ রাখার ব্যবস্থা আছে বলে মর্গ সূত্রে জানা যায়। এ ছাড়া বছরের কিছু সময় মরচুয়ারি নষ্ট থাকে, ফলে সঠিকভাবে লাশ ব্যবস্থাপনা সম্ভব হচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মর্গে কর্মরত একজন জানান, জায়গার অভাবে কোনো লাশ বেশিদিন রাখা সম্ভব হয় না। দ্রুত দাফন করার ফলে লাশের পরিচয়, মৃত্যুর কারণ বা কারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত এর কোনোটিই উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। সূত্র জানায়, বেওয়ারিশ হিসাবে লাশ দাফন করায় পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। ঘাতকদের পরিচয় কিংবা কোনো ক্লু উদঘাটন না হওয়ায় এসব খুনের কোনো বিচার হচ্ছে না। এতে তারা নতুন উদ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে ।
ডিএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে বেশিরভাগ হত্যার ঘটনা ঘটে। হত্যাকারীরা লাশ গুম করার উদ্দেশে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে ফেলে যায়। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও লাশ ঢাকায় আনা হয়। স্থান পরিবর্তনের কারণে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় লাশের টুকরা উদ্ধার করা হয়। যাতে তার পরিচয় পাওয়া সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে আমাদেরও তেমন কিছু করার থাকে না। যদি মার্ডার হয় তাহলে তার মামলা হচ্ছে এবং এগুলোর ছবি সিআইডির গেজেটে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, কখনো কখনো বিকৃত লাশ উদ্ধার করা হয়। এসব লাশের ছবি তার আত্মীয়-স্বজন দেখলেও চিনতে পারে না। অনেকে হত্যা করে লাশ রেললাইনে রেখে যায়। রেললাইনে কাটা যেসব লাশ উদ্ধার করা হয় সেগুলোর পরিচয় বের করা কঠিন।
এডভোকেট এলিনা খান বলেন, প্রতি বছর এত বেওয়ারিশ লাশ হওয়ার কথা না। সঠিক মনিটরিংয়ের অভাবে পরিকল্পিত হত্যার শিকার অনেককে বেওয়ারিশ হিসাবে দাফন করা হচ্ছে। ফলে এসব হত্যার কোনো ক্লু উদঘাটিত হচ্ছে না। যাদের দায়িত্ব লাশের ছবি পত্রিকা বা ইন্টারনেট মাধ্যমে প্রকাশ করা, সারাদেশে এর তথ্য পৌঁছে দেয়া, তারা তা সঠিকভাবে করছে না। তারা দায়িত্ব এড়াতে লাশ বেওয়ারিশ হিসাবে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে দিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, অনেক সময় পুলিশের তদন্ত করার গাফিলতি থাকায় অপরাধীরা সুয়োগ নেয়। তারা আইনের ফাঁক-ফোকর বের করে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের এডি সার্ভিস আব্দুল হালিম দৈনিক সংগ্রামকে জানান, লাশ মেডিকেল এবং থানার মাধ্যমে আসে। সাধারণত মেডিকেল থেকে যেসব বেওয়ারিশ লাশ এখানে নিয়ে আসা হয় সেগুলো কাটা-ছেঁড়া অবস্থায় থাকে বিধায় কিভাবে মারা গেল তা উদঘাটন করার সুযোগ থাকে না।
ডেইলি স্টারের সম্পাদকীয়তে দেশের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে: পররাষ্ট্র সচিব
ঢাকা, ২০ মার্চ (শীর্ষ নিউজ ডটকম): একটি ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদকীয়তে ভুল তথ্য উপস্থাপন হওয়ায় পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারুল কায়েস অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আজ রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব তার অসন্তোষের কথা জানান।
মিজারুল কায়েস বলেন, দ্যা ডেইলি স্টার পত্রিকায় লিবিয়া থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে সঠিক তথ্যের বাইরে একটি সম্পাদকীয় ছাপা হয়। বিষয়টি নিয়ে ওই পত্রিকার সম্পাদকের সঙ্গে সকালে ফোনালাপ হলেও বিকেল পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এক জন দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাছে দেশ ও জনগণ অনেক কিছু আশা করে। পত্রিকাটি ইংরেজি হওয়ায় বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে।
ডেইলী স্টারের বিষয়টি উল্লেখ করে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, সব সংবাদ মাধ্যমের কাছে সরকার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন আশা করে।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/এমএইচআর/টিআই/২২.৫৬ঘ.)


বিএনপি মানুষ খুন করে আর আ.লীগ শান্তি কায়েম করে: হাসিনা

নারায়ণগঞ্জ, ২০ মার্চ (শীর্ষ নিউজ ডটকম): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে মানুষ খুন করে আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে শান্তি কায়েম করে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ৫ বছরে এক মেগাওয়াট বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। অথচ আওয়ামী লীগ গত দুই বছরে ১৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন। আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০২১ রূপকল্প ঘোষণা করেছি। গত আওয়ামী লীগ শাসনামলে ক্ষমতা ছাড়ার সময় দেশে চালের কেজি ১০ টাকা ছিল। কিন্তু চার দলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর চালের দাম ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি হয়। এজন্য তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জ শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক মফিজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনের জাপা (এ) দলীয় সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা একেএম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, বন্দর থানা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম সাগর, জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি আবু জাহের প্রমুখ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার (অব.) এনামুল হক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জের অন্য ৪ সংসদ সদস্য সারাহ্ বেগম কবরী, গাজী গোলাম দস্তগীর বীরপ্রতীক, নজরুল ইসলাম বাবু, আব্দুল্লাহ আল কায়সার প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী জনসভার আগে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট ও বন্দর উপজেলার মদনগঞ্জে ১০২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের উদ্বোধন করেন এবং বন্দর উপজেলার হরিপুরে ৩৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বব্যাপী চালের খাদ্যের দাম বেড়েছে। আমরা সব সময়ই খাদ্যের দাম মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখতে চাই। বিদেশ থেকে ৪০/৪৫ টাকা কেজি চাল কিনে এনে ওএমএসের মাধ্যমে ২৪ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সারের দাম তিন বার কমানো হয়েছে। সেচেও ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নতি না করে হত্যা, হামলা, মামলা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি কায়েম করে। ভাঙ্গা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে তারা হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কল্যাণের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকে এবং সুন্দর থাকে। আমরা ক্ষমতায় এসেই মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে বই দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। আগামীতে ডিগ্রি পর্যন্ত পড়ালেখা করতে যাতে কোনো কষ্ট না হয় সে ব্যবস্থা করা হবে। বয়স্ক, বিধবা, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্ববিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। হতদরিদ্রদের জন্য বিনামূল্যে খাদ্য দেয়া হচ্ছে। গৃহহীনদের জন্য খাসজমি বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। দেশে ১১ লাখ টন খাদ্য মজুদ রয়েছে। কেউ খাদ্যে কষ্ট পাবে না। বেকারত্ব নিরসনের জন্য কর্মসংস্থান ব্যাংকের মাধ্যমে জামানত ছাড়াই এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে।
(শীর্ষ নিউজ ডটকম/ প্রতিনিধি/ এনএম/ এআইকে/২১.৫৫ ঘ.)

 

লেখক : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ

ছাত্রলীগের গায়ে দুটি নতুন কালো দাগ

ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার
মহাজোট শাসনামলে আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের শরীরে যুক্ত দুটি কালো দাগের সঙ্গে এ নিবন্ধে সম্মানিত পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে। তবে পরিচয়পর্বের আগে সাম্প্রতিককালের ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে কিছু বলে নেয়া প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতি প্রসঙ্গে স্বাভাবিক সময়ে আলোচনা হয় না। আলোচনা হয় অস্বাভাবিক সময়ে, দুঃসময়ে। কখন আসে দুঃসময়? দুঃসময় আসে তখন, যখন ক্যাম্পাসে লাশ পড়ে, বন্দুকযুদ্ধ হয়, হল দখল, সিট দখল, আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক সংঘর্ষ চলে, ছাত্রীহলে পুলিশ ঢোকে, চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি-ভর্তিবাণিজ্যের অর্থ বাটোয়ারাকেন্দ্রিক সংঘর্ষ হয়, অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ হল ঘেরাও করে, আর প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যকার সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। দুঃসময়ে নাগরিক সমাজ ছাত্ররাজনীতির ভালোমন্দ নিয়ে আলোচনামগ্ন হয়। তবে দুঃসময় কেটে গেলে আবার সবাই সবকিছু ভুলে যান। কিছুদিন পর পুনরায় ঘটে সংঘর্ষ; ঝরে রক্ত, পড়ে লাশ, খালি হয় মায়ের কোল। তারপর আবার আসে দুঃসময়। উচ্চ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি এ দুষ্টচক্র থেকে বের হতে পারেনি। স্বাধীনতা-উত্তর বহুল আলোচিত সেভেন মার্ডার থেকে শুরু করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বড় বড় অঘটন ঘটার পর প্রায় প্রতিবারই এ ছক অনুযায়ী কাজ হয়। বুয়েটে সনির লাশ পড়লে সুশীল সমাজ ছাত্ররাজনীতি নিয়ে চায়ের কাপে তুফান তুললেও আবার কিছুদিন পর সে আলোচনা স্তিমিত হয়ে যায়। একাডেমিক সংবাদের চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসগুলোর রাজনৈতিক ও সাংঘর্ষিক সংবাদই গণমাধ্যমে প্রাধান্য পায়। উল্লেখ্য, শুধু ২০১০ সালে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাঙ্গনে ৯টি লাশ পড়ে। ক্যাম্পাস থেকে চিরতরে হারিয়ে যায় আবু বকর, ফারুক, নাসিম, মহিউদ্দিন, কায়সার, আসাদুজ্জামান, রেজানুল, পলাশ প্রমুখ।
দিনবদলের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এলেও মহাজোট সরকার আমলে ছাত্ররাজনীতি চলমান দু্ষ্টচক্র থেকে বের হতে পারেনি। এ সময়ে শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশের অধিকতর অবনতি হয়। চলমান চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজির সঙ্গে নতুন উপসর্গ হিসেবে যুক্ত হয় বর্ধিত হারে ভর্তিবাণিজ্য। ছাত্ররাজনীতিকে ছাত্রনেতারা যেন ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করেন। ছোটখাটো ব্যবসা বা চাকরি করার চেয়ে ছাত্ররাজনীতি করাকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান মনে করে সম্প্রতি কতিপয় সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমান পেশা ছেড়ে দিয়ে দ্বিতীয় এমএ বা এমফিল ডিগ্রি করার নামে নতুনভাবে ছাত্রত্ব অর্জন করে ছাত্ররাজনীতিতে ফিরে আসেন।
সরকারি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র সংগঠনের বাড়াবাড়ি শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত বিষয়। এ বাড়াবাড়ি মহাজোট আমলে সীমা অতিক্রম করায় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেন। কিন্তু এরপরও ছাত্রলীগ প্রধানমন্ত্রীর ওই হুমকি আমলে নেয়নি। সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রথম তিন মাসে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত ছাত্রলীগের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের সংখ্যা পাওয়া যায় যেখানে ৮৮টি, সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সাংগঠনিক পদ ছেড়ে দেয়ার পরবর্তী তিন মাসে একই পদ্ধতিতে সংগৃহীত ছাত্রলীগের ১৩৪টি নেতিবাচক কর্মকাণ্ড প্রমাণ করে যে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সম্মানিত জননেত্রীর হুশিয়ারি উপেক্ষা করে তাদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড অব্যাহতভাবে প্রসারিত করেন।
ছাত্র নেতাকর্মীদের মধ্যে আগে বিপদাপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রবণতা ছিল। শিক্ষাঙ্গন বা জাতির স্বার্থে প্রয়োজনে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামতেন। কিন্তু এখন তাদের সে সময় নেই। তাদের বৈষয়িক ব্যস্ততা এতই বেড়েছে যে গরিব মানুষ শৈত্যপ্রবাহে মরণাপন্ন হলেও তারা শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় পান না। শিক্ষানীতির মতো শিক্ষাঙ্গনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিষয়ে সেমিনার করে বড় ছাত্র সংগঠনগুলো প্রতিক্রিয়া জানানোর অবসর পায় না। বিরল ব্যতিক্রম ছাড়া, গত ২০ বছরে ছাত্রদের শিক্ষাঙ্গনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট উল্লেখযোগ্য কোনো আন্দোলন সংগ্রাম করতে দেখা যায়নি। তারা এখন নানা কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত। ক্ষুদ্র পরিসরে সে কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দেয়া সম্ভব নয়। উল্লেখ্য, অতীত সরকারগুলোর ছাত্র সংগঠনও সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি-টেন্ডারবাজি করে নিজেদের গায়ে কালো দাগ লাগায়। তবে মহাজোট সরকার আমলে ছাত্রলীগের গায়ে ওই কালো দাগগুলো ছাড়াও দুটি চকচকে নতুন কালো দাগ লাগে। নিম্নে সে দুটি কালো দাগ উপস্থাপন ও বিশ্লেষণ করা হলো।
এক : ইডেন কলঙ্ক
রাজধানীর ইডেন কলেজে ২০১০-এর মার্চে ছাত্রলীগ নেত্রীদের ভর্তিবাণিজ্যকেন্দ্রিক সংঘর্ষে তাদের অনৈতিক অপরাধমূলক কর্মতত্পরতার খবর প্রকাশিত হয়ে জাতিকে লজ্জায় ফেললেও আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ রহস্যজনক কারণে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। ইডেনে ছাত্রলীগের ১২ মার্চের সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের নেতারা পরস্পরকে অনৈতিক কাজে জড়িত বলে অভিযোগ করেন। ছাত্রলীগ নেত্রীদের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানোর অভিযোগ পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট আকারে প্রকাশিত হয়। এ ধরনের একটি রিপোর্টে বলা হয়, ‘বিবদমান উভয় গ্রুপ পরস্পরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করে আরও বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের জোর করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো ছাড়াও গাউছিয়া মার্কেটের হোটেল ও আজিমপুরের ফ্ল্যাটসহ রাজধানীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে টার্গেট থাকে সংগঠনের জুনিয়র কর্মী এবং প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের আগত ছাত্রীরা। কেউ নেত্রীদের প্রস্তাবে রাজি না হলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীকে হল থেকে বের করে দেয়া হয়’ (যুগান্তর ১৩.৩.১০)। এ অপকর্মের সত্যতা ছাত্রীদের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়। অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের জনৈক ছাত্রী বলেন, ‘আমার চৌদ্দগোষ্ঠী আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে। আমি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কথামতো না চলায় আমাকে শিবির বানিয়ে হল থেকে বের করে দিয়েছে। আমাকে সব ধরনের অফার করা হয়েছিল। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক টাকার বিনিময়ে নবম শ্রেণীর মেয়েদেরও হলে রেখে তাদের দিয়ে দেহব্যবসা করাচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে শিবির বলে হল থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে’ (আমার দেশ, ১৩.৩.১০)।
ইডেন কলঙ্কের লজ্জা শিক্ষাঙ্গনসহ রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সুশীল সমাজে ছড়িয়ে পড়ে। বলিষ্ঠ সাংবাদিক আতাউস সামাদ ‘এ কলঙ্ক বড়ই যাতনাময়’ শিরোনামে প্রবন্ধ লিখে এবং সাবেক ছাত্রনেতা হায়দার আকবর খান রনো তাঁর লেখায় এ ঘটনাকে ‘এর চেয়ে লজ্জার, এর চেয়ে ঘৃণার কথা আর কী হতে পারে?’ — বলে আলোচ্য কলঙ্কের লজ্জা থেকে পরিত্রাণের ব্যর্থ চেষ্টা করেন। সম্মানিত বিরোধীদলীয় নেত্রী যুগপত্ সংসদের ভেতরে এবং বাইরে আলোচ্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেন। চট্টগ্রামে লালদীঘি ময়দানে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে বেগম জিয়া বলেন, ‘ছাত্রলীগের ছেলেরা মা-বোনদের ওপর অত্যাচার করছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সেঞ্চুরি উত্সব করেছে। ইডেন মহিলা কলেজে তাদের মেয়েরা ভর্তিবাণিজ্য করছে, আবার মন্ত্রী-এমপি ও ব্যবসায়ীদের মনোরঞ্জনেও পাঠাচ্ছে মেয়েদের।’ এ কলঙ্ক এমন স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হওয়ার পর ইডেন ছাত্রীদের সামাজিক মর্যাদা হ্রাস পায়। এক মাসের মধ্যে ১৫৯ ছাত্রী ভর্তি বাতিলের আবেদন করেন এবং কিছুসংখ্যক উদ্বিগ্ন অভিভাবক তাদের মেয়েদের হল থেকে বাড়ি নিয়ে যান। এতবড় অভিযোগ এমন নগ্নভাবে উন্মোচিত হলেও সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ বা ইডেন কলেজ কর্তৃপক্ষ—কেউই এ বিষয়টি তদন্ত করেছে বলে জানা যায় না। এ কারণে নেত্রীদের কলঙ্ক মোচন না হওয়ায় ইডেন কলঙ্ক ছাত্রলীগের শরীরে কালো দাগ হয়ে রয়ে যায়।
দুই : অভিনব পরীক্ষা
মাননীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ২০১০-এর এপ্রিলে পাবনায় ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের প্রাক্কালে নির্বাচন পদপ্রার্থী ছাত্র নেতাকর্মীদের রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করান। প্রার্থীদের মধ্যে যাতে মাদকাসক্ত না থাকেন সেজন্য এ রক্ত পরীক্ষার ‘শুদ্ধি অভিযান’কে স্থানীয় নেতারা অভিনন্দন জানান। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের চারিত্রিক অধঃপতন কোন পর্যায়ে গেলে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষে এহেন উদ্যোগ নেয়া সম্ভব তা অনুধাবনযোগ্য। কিন্তু প্রশ্ন হলো, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রধান সমস্যাগুলো কি রক্ত পরীক্ষা করে নির্ণয় করা সম্ভব? তাদের প্রধান সমস্যা কি মাদকাসক্তি?
সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে মাদকাসক্তির অভিযোগ প্রকাশিত হয়নি। একথা বলার অর্থ এ নয় যে, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা মাদকমুক্ত। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে নৈমিত্তিকভাবে উত্থাপিত অভিযোগগুলো ছিল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অস্ত্রবাজি, ভর্তিবাণিজ্য, সিটবাণিজ্য, অনৈতিক কাজ, অন্তঃকোন্দল ও আধিপত্য বিস্তারকেন্দ্রিক সংঘর্ষ প্রভৃতি। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী মহোদয় এসব অভিযোগের প্রতি নজর না দিয়ে মাদকের দিকে গেলেন কেন? তিনি কি উল্লিখিত অভিযোগগুলো থেকে ছাত্রলীগ নেতৃত্বকে মুক্ত করতে চান না? ছাত্রলীগ নেতৃত্বকে মাদকমুক্ত করার প্রচেষ্টা অবশ্যই ভালো কাজ। তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলো থেকে এ নেতৃত্বকে মুক্ত করা কি অধিক জরুরি ছিল না? কিন্তু দুঃখের বিষয়, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে মনোযোগ দেননি। ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজি করেন কিনা, ভর্তিবাণিজ্য করেন কিনা, খুন-খারাবি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কিনা, সেসব বিষয় যে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করা সম্ভব নয়, তা কি মন্ত্রী মহোদয় জানেন না? অবশ্য তিনি যদি রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ছাত্রনেতাদের টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, ভর্তিবাণিজ্য বা অনৈতিক কাজের সম্পৃক্ততা নির্ণয় করাতে পারতেন তাহলে নিঃসন্দেহে বিষয়টি চিকিত্সাশাস্ত্রে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়ে এক্ষেত্রে প্রতিমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক পদক পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল করত।
প্রতিমন্ত্রী যদি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রকৃতই স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে চাইতেন, তাহলে এরা যাতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড না করতে পারে সেজন্য এদের বিরুদ্ধে তিনি প্রথমেই অস্ত্র উদ্ধার অভিযান করাতেন। চাঁদাবাজ নেতাদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারের ব্যবস্থা করাতেন। নেতাদের অবৈধ সম্পদ আছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য তাদের ব্যাংক হিসাব পরীক্ষা করাতেন আর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ ও প্রকাশের ব্যবস্থা করাতেন। অবশ্য প্রতিমন্ত্রী তা করান কীভাবে? কারণ, যেখানে তাঁর দল নির্বাচনি ইশতেহারে মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ ও প্রকাশের ওয়াদা করেও বছর দেড়েক গড়িমসির পর সে প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে, সেখানে অপ্রতিশ্রুত ছাত্রলীগ নেতাদের সম্পদের হিসাব গ্রহণ ও প্রকাশ করা মানানসই হয় না। বলা যায়, মন্ত্রী মহোদয়ের ছাত্রনেতাদের রক্ত পরীক্ষার মধ্যে ছাত্রলীগকে পরিশুদ্ধ করার চেষ্টা যতটা ছিল, তার চেয়ে বেশি ছিল তাদের বড় অপকর্মগুলো আড়াল করার চাতুরি। এ অভিনব রক্ত পরীক্ষার ঘটনা ছাত্রলীগের শরীরে নতুন কালো দাগ এঁকে দেয়।
শরীরের দাগ মোচনের ওষুধ আছে। ফুটপাতের ওষুধ বিক্রেতাদের কাছেও দাগ নিবারণের মলম পাওয়া যায়। এগুলো ব্যবহার করে মানব শরীরের কালো দাগ মোচন করা সম্ভব। কিন্তু অপকর্মের কারণে অঙ্কিত সংগঠনের কালো দাগ মোচনের ওষুধ বাজারে পাওয়া যায় না। এ দাগ মোচনের একটিমাত্র উপায় আছে। আর তা হলো, অর্জন ও ভোগের রাজনীতি পরিহার করে পরোপকার ও ত্যাগের রাজনীতিতে ফিরে অব্যাহতভাবে ভালো কাজ করার মধ্য দিয়ে দুষ্কর্মের দুর্নাম মুছে দিয়ে এ দাগ নিশ্চিহ্ন করা। দেশবাসী ধৈর্য ধরে দেখতে চায়, ছাত্রলীগ নেতৃত্ব উল্লিখিত প্রক্রিয়ায় এর শরীরের নতুন কালো দাগগুলো মোচন করতে পারে কিনা।
লেখক : অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
akhtermy@gmail.com

সর্বহারাদের প্রত্যাবর্তনে অশান্ত হয়ে উঠছে বরিশাল বরিশাল অফিস আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠেছে সর্বহারা অধ্যুষিত বরিশালের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীরা বিরোধী দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচনী কাজে বাধাসহ নানান ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া গেছে। এ কাজে আত্মগোপনে থাকা সর্বহারা সন্ত্রাসীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার নামে সমর্থক নন এমন নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট প্রদান নিয়ে শঙ্কিত অনেকেই। সূত্র মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সর্বহারা সদস্যরা স্ব-স্ব এলাকায় ফিরে এসে অপতত্পরতা শুরু করে। প্রথমদিকে এরা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে না এলেও রাতের আঁধারে গোপন বৈঠক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পর পরই সর্বহারা সদস্যরা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জের আগরপুর, গৌরনদীর সরিকল এবং উজিরপুরের নারায়ণপুর, গুঠিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সর্বহারা সদস্যের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। সূত্র জানায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নে সাবেক দুই সর্বহারা নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরই এ দুই নেতার আত্মগোপনে থাকা অনুসারীরা এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করে। একই ইউনিয়নে দু’সর্বহারা নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। বাবুগঞ্জের মতো গৌরনদীর সরিকল ও উজিরপুরের নারায়ণপুর এবং গুঠিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সর্বহারা সদস্যদের আনাগোনা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকার দলীয় প্রার্থীরা বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিভাগীয় উপ-নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগও দাখিল হয়েছে। অনেকে স্ব-স্ব থানায় সাধারণ ডায়রিও করেছেন। সূত্র জানায়, ১৮ মার্চ উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের নয়াকান্দি এলাকায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইউনুস হাওলাদারের নির্বাচনী প্রচারণা কাজে বাধা দিয়েছে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহাগ মোল্লা ও তার সমর্থকরা। এ সময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন বিএনপি সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন আমার দেশ’কে বলেন, র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সাবেক সর্বহারা নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোল্লার বাহিনী তাদের নানাভাবে হুমকিসহ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। এ কারণে এলাকার ভোটাররা অনেকটা শঙ্কিত। এছাড়া একই ইউনিয়নের পটিবাড়ী গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা করতে এসে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় মামলাও হয়েছে বলে উজিরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. শামিম শেখ জানিয়েছেন। এদিকে আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনী কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রশিদ সিকদার। এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় উপ-নির্বাচন কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও ভয়ভীতি প্রদানসহ নানান বিষয়ে কমিশনে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সর্বহারাদের প্রত্যাবর্তনে অশান্ত হয়ে উঠছে বরিশাল

বরিশাল অফিস
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্রমশ অশান্ত হয়ে ওঠেছে সর্বহারা অধ্যুষিত বরিশালের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল। বিভিন্ন এলাকায় সরকারি দল সমর্থিত প্রার্থীরা বিরোধী দলীয় প্রার্থীকে নির্বাচনী কাজে বাধাসহ নানান ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের খবর পাওয়া গেছে। এ কাজে আত্মগোপনে থাকা সর্বহারা সন্ত্রাসীরা আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো কোনো এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার নামে সমর্থক নন এমন নারীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট প্রদান নিয়ে শঙ্কিত অনেকেই।
সূত্র মতে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত সর্বহারা সদস্যরা স্ব-স্ব এলাকায় ফিরে এসে অপতত্পরতা শুরু করে। প্রথমদিকে এরা দিনের বেলায় প্রকাশ্যে না এলেও রাতের আঁধারে গোপন বৈঠক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সম্প্রতি প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দের পর পরই সর্বহারা সদস্যরা বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে বাবুগঞ্জের আগরপুর, গৌরনদীর
সরিকল এবং উজিরপুরের নারায়ণপুর, গুঠিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সর্বহারা সদস্যের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
সূত্র জানায়, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে বাবুগঞ্জের আগরপুর ইউনিয়নে সাবেক দুই সর্বহারা নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর পরই এ দুই নেতার আত্মগোপনে থাকা অনুসারীরা এলাকায় ফিরে আসতে শুরু করে। একই ইউনিয়নে দু’সর্বহারা নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও করছেন অনেকেই। বাবুগঞ্জের মতো গৌরনদীর সরিকল ও উজিরপুরের নারায়ণপুর এবং গুঠিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সর্বহারা সদস্যদের আনাগোনা অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে বিভিন্ন ইউনিয়নে সরকার দলীয় প্রার্থীরা বিরোধী দলীয় প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বিভাগীয় উপ-নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে অভিযোগও দাখিল হয়েছে। অনেকে স্ব-স্ব থানায় সাধারণ ডায়রিও করেছেন। সূত্র জানায়, ১৮ মার্চ উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের নয়াকান্দি এলাকায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইউনুস হাওলাদারের নির্বাচনী প্রচারণা কাজে বাধা দিয়েছে অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহাগ মোল্লা ও তার সমর্থকরা। এ সময় তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন বিএনপি সম্পাদক মো. মেজবাহ উদ্দিন আমার দেশ’কে বলেন, র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত সাবেক সর্বহারা নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান আবু জাফর মোল্লার বাহিনী তাদের নানাভাবে হুমকিসহ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। এ কারণে এলাকার ভোটাররা অনেকটা শঙ্কিত। এছাড়া একই ইউনিয়নের পটিবাড়ী গ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা করতে এসে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় মামলাও হয়েছে বলে উজিরপুর থানার সেকেন্ড অফিসার মো. শামিম শেখ জানিয়েছেন।
এদিকে আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনী কাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী ইলিয়াস তালুকদারের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করেছেন অপর চেয়ারম্যান প্রার্থী আবদুর রশিদ সিকদার। এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় উপ-নির্বাচন কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা ও ভয়ভীতি প্রদানসহ নানান বিষয়ে কমিশনে একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

mokhbanglar

মুক্ত মাহমুদুর রহমানের আদালতে হাজিরা

স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সদ্য কারামুক্ত মাহমুদুর রহমান মানহানির অভিযোগ এনে দায়ের করা একটি মামলায় গতকাল আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। হাজিরা গ্রহণ শেষে ঢাকার সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলী হোসাইন আগামী ১১ মে এ মামলায় হাইকোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ দাখিলের তারিখ ধার্য করেন। এরই মধ্যে হাইকোর্ট এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন।
কারামুক্ত মাহমুদুর রহমান গতকাল সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকা সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছলে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। বেলা সোয়া ১০টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে মাহমুদুর রহমানের পক্ষে বিপুলসংখ্যক আইনজীবী এজলাসে হাজির হন। এ সময় সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এরই মধ্যে উচ্চ আদালত এ মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। আদালতের এ স্থগিতাদেশ পেশ করতে আমাদের কিছুদিন সময় প্রয়োজন। আদালত সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১১ মে আদেশ পেশ করার জন্য তারিখ ধার্য করেন। আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের পরিবার সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর তার ভাই মোরশেদুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার অপর বিবাদীরা হলেন প্রকাশ আলহাজ্ব হাসমত আলী, সিনিয়র রিপোর্টার এমএ নোমান ও রিপোর্টার রাকিব হোসেন। পূর্বনির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী মাহমুদুর রহমান গতকাল আদালতে হাজিরা দিতে আসবেন—এ খবর পাওয়ার পর কয়েকশ’ আইনজীবী আদালত চত্বরে জমা হন। আইনজীবীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, সিনিয়র আইনজীবী মাসুদ আহমদ তালুকদার, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম তালুকদার, সাবেক পিপি মো. মহসিন মিয়া। এসময় অ্যাডভোকেট আবু বকর সিদ্দিক, আবুল খায়ের, জয়নাল আবেদনী মেজবাহ, ওমর ফারুক ফারুকী, মোসলেহউদ্দিন জসিম, সুলতান মাহমুদ, নজরুল ইসলামসহ বিপুলসংখ্যক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। শুভেচ্ছা জানিয়ে অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, সময়ের সাহসী সন্তান মাহমুদুর রহমান অন্যায় ও জুলুমের কাছে মাথানত না করে বীরের বেশে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন। সত্য প্রকাশে তার আপসহীন ভূমিকায় জাতি উজ্জীবিত হবে। অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমদ তালুকদার বলেন, জুলুমবাজ সরকারের রক্তচক্ষুকে ভয় না করে মাহমুদুর রহমান সত্য ও মানবাধিকারের পক্ষে লড়াই করে চলেছেন। সাহসী ভূমিকা পালনের মাধ্যমে তিনি জাতির হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

MOKH BANGLAR

প্রধান বিচারপতির কাছে ইসলামী শাসনতন্ত্রের স্মারকলিপি : দেশ অবরোধ করে ইসলামবিরোধী সরকারের পতন ঘটানো হবে

স্টাফ রিপোর্টার
ফতোয়া নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের দেয়া রায়কে পবিত্র কোরআন ও হাদিসপরিপন্থী উল্লেখ করে তা বাতিলের দাবিতে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন। স্মারকলিপি দেয়ার আগে মুক্তাঙ্গনে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে দলের নেতারা নারীনীতি ও শিক্ষানীতি প্রণয়নসহ সরকারের বিভিন্ন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামবিরোধী সরকার। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে তারা দেশকে ধর্মহীন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ইসলামবিরোধী আইন বাতিল করা না হলে সারাদেশ অবরোধ করে এ সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে ঘোষণা দেন তারা। নেতারা বলেন, কোরআন-হাদিসবিরোধী রায় দেয়ার এখতিয়ার পৃথিবীর কোনো আদালতের নেই। নির্বাচনী অঙ্গীকার ভুলে সরকার এখন কোরআন-হাদিসের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।
গতকাল মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ শেষে প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দিতে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রেস ক্লাবের সামনে পৌঁছার আগেই পুলিশ কাঁটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে থামিয়ে দেয়। সেখান থেকে দলের মহাসচিবের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল সুপ্রিমকোর্টে স্মারকলিপি দিয়ে ফিরে আসা পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় প্রায় এক ঘণ্টা তারা জিকির করেন এবং সরকারের ইসলামবিরোধী বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে স্লোগান দেন। রাস্তা অবরোধ করে রাখায় এ সময় সচিবালয়ের আশপাশের সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
মুক্তাঙ্গনের সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, একমাত্র ইসলামী আইন অনুসরণের মাধ্যমেই দুনিয়ায় মানুষ সুখ-শান্তিতে থাকতে পারে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ইসলামবিরোধী কোনো আইন করবে না বলে অঙ্গীকার করেছিল। অথচ এখন তারা কোরআন-হাদিসপরিপন্থী আইন করে মুসলমানদের ঈমান-আকিদা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। সরকার আদালতকে ব্যবহার করে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিচ্ছে। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতি বা যেই ইসলামী আইন ধ্বংস করবে তার পরিণতি হবে নমরুদ-ফেরাউনের মতো। তারা দুনিয়ায় টিকে থাকতে পারবে না।
ফয়জুল করিম বলেন, মুমিনরা আলাহর হুকুম মানবে, আরেক দল মানবে না এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কোনো মুসলমান কোরআন-সুন্নাহর বিরুদ্ধে আইন করলে তা আমরা মানতে পারি না। তিনি বলেন, সরকার ইভটিজিং বন্ধের কথা বলে। পবিত্র কোরআনেই ইভটিজিং না করার বিধান আছে। পর্দার বিধান মানলেই ইভটিজিং বন্ধ হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশে পর্দানশীন ও বেপর্দা নারীদের মধ্যে কারা ইভটিজিং ও ধর্ষণের শিকার হয় তা জরিপ করলেই বেরিয়ে আসবে। ইসলামী আইনের মাধ্যমেই মাদক, দুর্নীতিসহ সব অনাচার বন্ধ হয়ে মানুষ শান্তিতে থাকতে পারে। ফতোয়া তুলে দিলে পারিবারিক বন্ধন উঠে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকার ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত না হলে দেশ অবরোধ করে তাদের বিতাড়িত করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কেউ ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি। এ সরকারও পারবে না।
দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, দেশে একের পর এক ইসলামবিরোধী আইন হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? তিনি কি কোনো চাপের মধ্যে আছেন নাকি মুসলমানদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চান তা জানাতে হবে। দেশ অচল না করা পর্যন্ত কি প্রধানমন্ত্রী সোজা পথে চলবেন না সেটাও পরিষ্কার করতে হবে। শরিয়তবিরোধী কিছু না করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। মহানগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন বলেন, দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং খুন-জখমের যে তাণ্ডব চলছে তাতে আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ইসলাম, মুসলমান, স্বাধীনতা ও মানবতার দুশমন। তাদেরকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করার শপথ নিতে হবে। এ সরকারের হাতে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব কোনোটাই নিরাপদ নয়। ফেলানীর মতো বাংলাদেশের নাগরিকদের বিনা কারণে সীমান্তে হত্যা করে ভারত কাঁটাতারে লটকিয়ে রাখছে, অথচ সরকার প্রতিবাদও করছে না। উল্টো ভারতকে বিনা পয়সায় ট্রানজিট দিয়ে বাংলাদেশকে পরাধীন করার ষড়ষড়ন্ত্র করছে। অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে দেশকে ধর্মহীন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এ সরকারের হাতে দেশের মানুষের জান-মাল ও ধর্মীয় মূল্যবোধ নিরাপদ নয়।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট শাহনেওয়াজ, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন খান, আহমদ আবদুল কাইয়ুম, মাওলানা আবু সাঈদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট এরফান খান প্রমুখ। সমাবেশ থেকে একই দাবিতে ২৪ মার্চ মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা এবং ফতোয়া বিষয়ক রায় ঘোষণার দিন হাইকোর্টের সামনে গণঅবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে প্রধান বিচারপতিকে দেয়া স্মারকলিপিতে ৫ দফায় বলা হয়েছে—আলাহর আইনের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার এখতিয়ার কারও নেই। তাই হাইকোর্ট প্রদত্ত ফতোয়াবিরোধী রায় অবিলম্বে বাতিল করতে হবে, ইসলামী বিধিবিধান বা শরিয়ার বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে কোনো প্রকার স্বপ্রণোদিত রুল জারি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্প্রতি হিজাবের বিরুদ্ধে আদালত প্রদত্ত রুল বাতিল করতে হবে, প্রচলিত মুসলিম পারিবারিক আইনকে সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়া মোতাবেক ঢেলে সাজাতে হবে, আল্লাহ, রাসুল ও ইসলামের বিধানের বিরুদ্ধে কোনো আইন পাস করা থেকে আদালতকে এবং দেশের যে কোনো সংস্থাকে এ জাতীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে, বিদ্যমান ইসলাম ও শরিয়াবিরোধী সব আইন পর্যায়ক্রমে বাতিলের উদ্যোগ নিতে হবে এবং দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষা এবং ধর্মীয় বিষয়াদির সমাধানকল্পে আদালতে পৃথক ধর্মীয় বেঞ্চ গঠন করতে হবে।
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাত্ শেষে মাওলানা ইউনুস সাংবাদিকদের বলেন, প্রধান বিচারপতির কাছে আমরা স্মারকলিপি পেশ করেছি। তিনি স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং কোরআন-হাদিসবিরোধী কোনো রায় না দেয়ার বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতি আমাদের আরও বলেছেন, আদালত এমন কোনো আদেশ দেবেন না, যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে এবং দেশের মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
প্রসঙ্গত, প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চে ফতোয়া নিষিদ্ধ করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিলের শুনানি হচ্ছে। আজও শুনানি হবে।
সম্মিলিত পেশাজীবী ফোরাম : সাবেক সচিব, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও গবেষক শাহ আবদুল হান্নান বলেছেন, কোরআনের বিধান অপরিবর্তনীয়। আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন কোরআন শরিফে নারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছেন। তাই নারী অধিকার বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। যারা এ ধরনের দুঃসাহস দেখাচ্ছে তাদেরকে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হতে হবে। তিনি সরকারকে এ ধরনের হটকারী তত্পরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্মিলিত পেশাজীবী ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নারী উন্নয়ন নীতিমালা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ আবদুল হান্নান এসব কথা বলেন। ফোরামের সহ-সভাপতি ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সুপ্রিমকোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইউএবি রাজিয়া আক্তার বানু, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল-আমিন, ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা ও ড. আবদুস সামাদ। মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন কৃষিবিদ গোলাম রাব্বানী।
সম্মিলিত ওলামা পরিষদ : নারীনীতি বাতিল, ফতোয়া নিষিদ্ধের চক্রান্ত বন্ধ, ধর্মহীন শিক্ষানীতি সংশোধন এবং ইফা ডিজির অপসারণ দাবিতে ১৪ মে রাজধানীতে সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদ ঘোষিত মহাসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া ২৫ মার্চ সব বিভাগীয় ও বড় জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও ১ এপ্রিল সব থানায় বিক্ষোভ সমাবেশ করারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মুহিউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় নেতারা বলেন, ওলামা পরিষদের ওইসব দাবি বর্তমানে গণদাবিতে পরিণত হয়েছে।
ছাত্র মজলিস : নারীনীতির কোরআনবিরোধী ধারা বাতিলের দাবিতে এবং ফতোয়া নিষিদ্ধে হাইকোর্টের রায়ের প্রতিবাদে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ২৪ ও ২৫ মার্চ দেশব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল। গতকাল কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক বিশেষ সভায় সংগঠনের সভাপতি মুহাম্মদ শায়খুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
যুব মোর্চা : ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটি কর্তৃক আহূত ৪ এপ্রিল দেশব্যাপী ইসলাম ও কোরআন রক্ষার হরতালের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন ইসলামী যুুব মোর্চা বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল বিকালে যুব মোর্চার লালবাগস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় এ সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
খেলাফত মজলিস : একই দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৪ মার্চ দেশব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে মানববন্ধন করা হবে।

 

 2.

নড়াইলে নিজ দলের সন্ত্রাসীদের হাতে ছাত্রলীগ সভাপতি খুন

নড়াইল প্রতিনিধি
অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নড়াইল সদর উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আমিরুল ইসলাম অপু (২৫) প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে খুন হয়েছেন। গতকাল বেলা পৌনে বারোটায় শহরের মুচিপোল এলাকায় সন্ত্রাসীরা অপুকে ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে অপু মারা যান। অপু শহরের নিশিনাথ এলাকার আবদুল হালিম বিশ্বাসের ছেলে। এ সময় জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম সাবু ও যুবলীগ নেতা রানা সন্ত্রাসীদের হাতে আহত হন। তাদেরকেও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপু মারা যাওয়ার খবরে তার গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তারা সদর হাসপাতাল ও পুরাতন বাস টার্মিনালের সোনারগাঁও হোটেলে ভাংচুর চালায়। নিশিনাথতলার কওসার শেখের বাড়িতেও ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে তারা। সদর হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
আহত সাজেদুল ইসলাম সাবু ও রানা জানান, অপুসহ তারা কয়েকজন মুচিপোলে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এ সময় যুবলীগ নেতা আলমগীর ওরফে কাহার আলম, নান্না, ছাত্রলীগ ক্যাডার অলিদ, মিথুন, সজিব, বাপ্পি, তুষার, রয়েল, আজিমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাদের ঘিরে ফেলে। তারা ধারাল অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে অপুকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায়। সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অপু মারা যায়। নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরদার রকিবুল ইসলাম জানান, আধিপত্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে অপু খুন হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত বিষয় জানা সম্ভব হবে।
3.

জাহানমণির মুক্ত নাবিকরা দেশে ফিরছেন আজ

চট্টগ্রাম ব্যুরো
সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্ত হওয়া বাংলাদেশী জাহাজ এমভি জাহান মণির নাবিকরা দেশে ফিরছেন আজ। ২৫ নাবিক ও এক মহিলাসহ অপহৃত ২৬ জন আজ বিকাল ৩টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন বলে জানিয়েছেন জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান ব্রেভ রয়েল শিপিং ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের মেরিন সুপারিনটেনডেন্ট ক্যাপ্টেন গোলাম মোস্তফা।
গত বছরের ৫ ডিসেম্বর আরব সাগর থেকে বাংলাদেশী পতাকাবাহী জাহাজ এমভি জাহান মণি সোমালিয়ার জলদস্যুদের কবলে পড়ে। জলদস্যুদের হাতে ১০০ দিন আটক থাকার পর ১৪ মার্চ এক নাবিক পত্নী ও ২৫ নাবিকসহ জাহাজটি মুক্তি পায়। মুক্তি পাওয়ার ৫ দিন পর শনিবার সকালে এমভি জাহান মণি ওমানের সালালা বন্দরে নোঙর করে। সালালা বন্দরে পৌঁছার পর ওমানের রাষ্ট্রদূত ও মালিকপক্ষ নাবিকদের বরণ করে নেন। জলদস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পাওয়া নাবিকরা হলেন জাহাজের মাস্টার ফরিদ আহমেদ, চিফ অফিসার আবু নাসের মো. আবদুল্লাহ মজুমদার, সেকেন্ড অফিসার এসএম নূর-ই আলম, থার্ড অফিসার কামরুল হোসাইন, ডেক ক্যাডেট শরিফুল ইসলাম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার মতিউল মওলা, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন, থার্ড ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত কুমার মণ্ডল, ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাহাবুল আলম, ইঞ্জিন ক্যাডেট শাহরিয়ার রাব্বী, সিম্যান রুহুল আমিন, এমদাদ হোসাইন, নাজিম উদ্দিন, আবদুল্লাহ ফাত্তাহ ও রবিউল ইসলাম, গ্রেসার ফরিদুল ইসলাম, কিবরিয়া আহমেদ, মোহাম্মদ ইলিয়াছ, চিফ কুক মশিউর রহমান, জেনারেল স্টুয়ার্ড জসিম উদ্দিন, ডেক ফিটার মোহাম্মদ ইদ্রিস, ইঞ্জিন ফিটার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, ফার্স্ট ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবুল হোসাইন ও তার স্ত্রী রুখসানা বেগম এবং সেকেন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার আবুল বাশার।
মঙ্গলবার জাহান মণির মুক্ত নাবিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার কথা থাকলেও নাবিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওমানের বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্পরতায় ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে যাওয়ায় নির্ধারিত দিনের একদিন আগেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।
আজ বিকাল ৩টায় চট্টগ্রামে পৌঁছার পর নাবিকরা বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নগরীর আগ্রাবাদে হোটেল সেন্টমার্টিনে আসবেন। সেখানে জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের সংবর্ধনা দেয়া হবে।
4.

৫১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে সালাহউদ্দিন কাদেরের স্ত্রীর মামলা

স্টাফ রিপোর্টার
৫১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা নতুনচন্দ্র সিনহার ছেলে প্রফুল্লচন্দ্র সিনহা, এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান, দৈনিক সমকাল পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সালমা ইসলাম, দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর স্ত্রী মিসেস ফারহাত কাদের চৌধুরী ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করলে বিচারক ২২ মে বিবাদীদের জবাব দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, প্রফুল্লচন্দ্র সিনহা ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর এবং আজ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সাক্ষাত্কারে এসে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে তার বাবা নতুনচন্দ্র সিনহার হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীও গুলি করেছেন বলে অভিযোগ করেন। গত ১৮ জানুয়ারি এটিএন নিউজে, ২৫ সেপ্টেম্বর সমকালে, ২৫ জানুয়ারি আমাদের সময়, ২৫ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কুণ্ডেশ্বরী ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে সংবাদ পরিবেশন করা হয়।
আর্জিতে বলা হয়, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী কোনোক্রমেই পাকিস্তানি সৈন্যদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না; অধিকন্তু প্রফুল্লচন্দ্র সিনহার বড়ভাই সত্যরঞ্জন সিনহা ১৯৭১ সালে শান্তি কমিটির সদস্য ছিলেন এবং সরাসরি স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেন। মামলার আর্জির সঙ্গে ১৯৭১ সালের ১৫ জুন সত্যরঞ্জন সিনহাকে শান্তি কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার গেজেট নোটিফিকেশনের কপি দাখিল করা হয়। তাই মামলার বাদিনী বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে নতুনচন্দ্র সিনহাকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার মিথ্যা বানোয়াট সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তাকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও আন্তর্জাতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করায় ৫১০ কোটি টাকা দাবি করে ক্ষতিপূরণ মামলাটি দায়ের করেন।
5.

মাহমুদুর রহমানকে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে : কাদের সিদ্দিকী

স্টাফ রিপোর্টার
সদ্য কারামুক্তি উপলক্ষে আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম। মাহমুদুর রহমানকে লেখা এক শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, তার পরিবার ও দেশবাসীর পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিক জগতের পথিকৃত ইত্তেফাক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ছাড়া আর কেউ সরকারের রোষানলে পড়ে তার মতো দীর্ঘ সময় কারা নির্যাতন ভোগ করেননি এবং জনগণের আস্থাভাজন সম্পাদকও হননি। দীর্ঘ কারাভোগে তার প্রতি জনগণের যে আস্থা এবং বিশ্বাস জেগেছে, তা যদি লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠে রক্ষা করেন বা করতে পারেন তাহলে দীর্ঘ সময় জনগণের হৃদয়ে আপনার স্থান ধরে রাখতে পারবেন।
কাদের সিদ্দিকী মাহমুদুর রহমানের দীর্ঘায়ু কামনা করে শুভেচ্ছা বাণীতে আরও বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে থাকার জন্য তাকে শক্তি দান করুন এবং তার পরিবার পরিজনদের নিরাপদ, সুস্থ রাখুন এ প্রত্যাশা করি।
6.

সংবিধান ছাড়াই চলছে দেশ -মওদুদ : সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে পুনর্মুদ্রণ হয়েছে -শফিক

সংসদ রিপোর্টার
সংবিধান ছাড়াই দেশ চলছে—এমন অভিযোগ করে এ বিষয়ে সংসদ নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সংসদে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী বিএনপির সিনিয়র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধান নিয়ে দেশবাসী বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন। দেশে এখন কোনো সংবিধান নেই। একটি খসড়া সংবিধানের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই সংবিধানটিও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়নি। তাই এই খসড়া সংবিধান অসাংবিধানিক, বেআইনি ও অবৈধ। এই অবৈধ সংবিধানের ওপর ভিত্তি করে দেশ চলতে পারে না। মওদুদ আহমদের এই বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সংসদকে জানান, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের আলোকেই সংবিধান পুনর্মুদ্রণ হয়েছে। আর সর্বোচ্চ আদালতের রায় সবাই মানতে বাধ্য। তবে স্পিকার আবদুল হামিদ অ্যাডভোকেট বলেন, এ প্রসঙ্গ নিয়ে পরে সময় নিয়ে আলোচনা করা হবে। তখন আইনমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে জবাব দেয়ার সুযোগ পাবেন।
গতকাল জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনার আগে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর চাইলে স্পিকার আবদুল হামিদ তাকে এক মিনিটের জন্য ফ্লোর দেন। মওদুদ আহমদ বলেন, সংবিধান নিয়ে দেশের মানুষ চরম বিভ্রান্তিতে আছেন। সংবিধান পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী বলেছেন পুনর্মুদ্রিত সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে। আবার তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের একমাত্র অধিকার সংসদের। আসলে কোনটি মূল সংবিধান। অথচ সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা আদালতকে দেয়া হয়নি।
তিনি বলেন, এই সংবিধান সংশোধন নিয়ে আইনমন্ত্রী ও সংবিধান সংশোধনে গঠিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দ্বন্দ্ব রয়েছে। আইনমন্ত্রী নিজেও জানেন সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার আদালতের নেই। এই ঘটনার সূত্রপাত যখন হয় আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপত্তি তুলেছিলাম। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছিলেন। তখন বলা হয়েছে, সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব পাস করা হবে। কিন্তু তা হয়নি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট বক্তব্য আশা করি।
এই পর্যায়ে স্পিকার আবদুল হামিদ মওদুদকে উদ্দেশ করে বলেন, এ নিয়ে আপনি কথা বলতে চাইলে আরও অনেকে কথা বলতে চাইবে। কিন্তু সংবিধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ নিয়ে এখানে কোনো বিতর্ক সৃষ্টির সুযোগ নেই। পরে আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ফ্লোর চাইলে তাকেও ১ মিনিট সময় দেন স্পিকার। এ সময় আইনমন্ত্রী বলেন, মওদুদ আহমদ নিশ্চয়ই জানেন সামরিক ফরমান দিয়ে কখনও সংবিধান পরিবর্তন করা যায় না। একমাত্র সংসদই সংবিধানে সংযোজন-বিয়োজন করতে পারে। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন; তখন জিয়াউর রহমানের আমলে সামরিক ফরমান দিয়ে সংবিধান পরিবর্তন করা হয়েছে।মহামান্য কোর্ট ওই অংসাংবিধানিক বিধানগুলো বাদ দিয়েছেন। পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে সংবিধানকে পুনস্থাপিত করেছেন। ওই রায় অনুযায়ী আমরা সংবিধান পুনর্মুদ্রণ করেছি। আর এটাই সঠিক। এখানে কোনো জটিলতা নেই। সুপ্রিমকোর্ট যে রায় দেবেন তা সবাইকে মেনে নেবেন—এটাই আইনের বিধান।
7

চিকিত্সার জন্য সৌদী গেলেন খালেদা জিয়া : মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

স্টাফ রিপোর্টার
বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চিকিত্সার জন্য সৌদি আরব গেছেন। সৌদী সরকারের আমন্ত্রণে গতকাল রাত সোয়া ৯টায় বিমানযোগে সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। সৌদি আরব যাওয়ার প্রাক্কালে বেগম খালেদা জিয়া দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
উল্লেখ্য, খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন গত বুধবার ইন্তেকাল করায় দলের মহাসচিবের পদ শূন্য হয়। বিএনপি সূত্র জানায়, বেগম জিয়া সৌদি আরবের বিখ্যাত কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে তার পায়ের চিকিত্সা নেবেন। এ সময় তিনি ওমরাহ পালন করবেন। আগামী ২৯ মার্চ তার ঢাকায় ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হয়েছেন তার ভ্রাতৃবধূ বেগম কানিজ ফাতেমা, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী মাহবুব আল আমিন ডিউ, একান্ত সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ, ফটোগ্রাফার নুরুদ্দিন আহমেদ নুরু।
বেগম খালেদা জিয়াকে বিদায় জানাতে গতকাল রাতে বিমানবন্দরে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, এম কে আনোয়ার, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঢাকা সিটি করপোরেশনের মেয়র সাদেক হোসেন খোকা, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মে. জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, ড. ওসমান ফারুক, আবদুল হালিম, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল কাইয়ুম, বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বরকতউল্লা বুলু, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, এম ইলিয়াস আলী, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, নাজিমউদ্দিন আলম, আবুল খায়ের ভুইয়া এমপি, শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি, হাবিব উন নবী খান সোহেল, লুত্ফুর রহমান কাজল, আবদুস সালাম, অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সানাউল্লাহ মিয়া, নূরী আরা সাফা, অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, আবদুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, শিরীন সুলতানা, রেহেনা আক্তার রানু, নিলুফার চৌধুরী মনি, সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া, শাম্মী আক্তার, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আজিজুল বারী হেলাল, মীর সরাফত আলী সপু, সাইফুল আলম নিরব, আ ক ম মোজাম্মেল, শফিউল বারী বাবু, হাফেজ আবদুল মালেক, রফিক শিকদার, শহিদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান খান শিমুল প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, এর আগে সৌদী বাদশাহর আমন্ত্রণে বেগম খালেদা জিয়া গত বছরের ৩০ আগস্ট সে দেশ সফর করেন।
মির্জা ফখরুল মহাসচিবের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেলেন
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাতে সৌদি আরব যাওয়ার প্রাক্কালে দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে এ দায়িত্ব দিয়ে যান বলে জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।
আমার দেশকে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে ম্যাডাম আমাকে বলেছেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দলের যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ আমার দেশকে বলেন, ম্যাডাম সৌদি আরবে চিকিত্সার জন্য গেছেন। মহাসচিব নেই। এ অবস্থায় তিনি সাংগঠনিক কার্যক্রম দেখাশোনায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দায়িত্ব পালনের জন্য বলে গেছেন।
 

wel come nrbux

NRBUX